1. admin@ekdeshi.com : Ekdeshi :
  2. editor@ekdeshi.com : Ek Deshi : Ek Deshi
মশা বাড়ন্ত, সঙ্গে যন্ত্রণা

মশা বাড়ন্ত, সঙ্গে যন্ত্রণা

  • সময় : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১

 

আতিক বললেন, “দেখি ফগার মেশিন দিয়ে ধোঁয়া মারে। সকালেও দেখি ড্রেনে কী যেন ওষুধ ছিটায়। কিন্তু মশা তো কমে না।”

 

রাজধানীতে বেড়ে গেছে কিউলেক্স মশার ঘনত্ব। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুর মত রোগ হওয়ার ভয় নেই। কিন্তু মশার জ্বালায় নগরবাসী অতিষ্ঠ।

 

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এবার মশা বেড়েছে।

 

মশার উপদ্রব কমাতে অঞ্চলভিত্তিক ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ নেওয়ার চিন্তা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পাল্টাচ্ছে মশার ওষুধ।

 

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা নূর উল্লাহ সোহেল জানালেন, গত বছর মার্চ এবং পরের দুই তিন মাস তার এলাকায় মশার উৎপাত তেমন ছিল না।

সে সময় মশা নিয়ন্ত্রণে থাকলে এ বছর কেন তা হচ্ছে না- সেই প্রশ্ন করেন তিনি।

“এটা তো হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট না। সরকারের সদিচ্ছার অভাব আছে। মানুষের মধ্যে রাজনীতিসহ নানা বিষয়ে মতবিরোধ আছে, কিন্তু মশার অত্যাচারের ব্যাপারে তো কারো কোনো দ্বিমত নেই।”

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ জানান, তার নয় তলার বাসার দরজা জানালা সব সময় বন্ধ থাকে বলে মশা ঢুকতে পারে না।

অফিসেও মশা ঢোকার সুযোগ রাখেননি। কিন্তু কয়েক দিন আগে কল্যাণপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঢাকায় মশার যন্ত্রণা কতটা- তা টের পেয়েছেন তিনি।

“সন্ধ্যার পর সেখানকার অবস্থাটা এমন, আমি যদি বাতাসে হাত দিয়ে মশা ধরতে চাই, তাহলে হাত ভর্তি মশা পাব। অন্যান্য বছরের চেয়ে মশা এবার বেশি মনে হচ্ছে। ছোট ছোট মশা, বেশি বড় না। আমি যতক্ষণ ছিলাম, টের পেয়েছি।”

মশার ঘনত্ব নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার।

রাজধানীতে মশার উপদ্রব যে গত বছরের এই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি, তার জরিপেও তা উঠে এসেছে।

কবিরুল বাশার জানান, প্রতি মাসে ঢাকার ছয়টি এলাকাকে নমুনা ধরে সেখানে জরিপ করেন তারা।

সেজন্য শনির আখড়া, শাঁখারীবাজার, মোহাম্মদপুর-শ্যামলী, পরীবাগ-সেন্ট্রাল রোড-শাহবাগ, উত্তরা এবং খিলগাঁও-বাসাবো এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশার ঘনত্ব মাপার যন্ত্র (ডিপার) বসানো হয়।

প্রতিটি এলাকায় ২০০টি করে ডিপার বসানো হয়। ডিপার একবার পানিতে ডুবিয়ে তুলে আনার পর তাতে কতগুলো মশার লার্ভা পাওয়া গেল তা গণনা করা হয়। সবগুলো নমুনা সংগ্রহের পর গড় করে ওই এলাকায় মশার ঘনত্ব বের করা হয়।

গবেষণার ফলাফল জানিয়ে কবিরুল বাশার সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এ বছর মশার ঘনত্ব গত বছরের চেয়ে বেশি পেয়েছেন তিনি।

“সব জায়গায় সমান পাওয়া যায় না। গত বছর প্রতিটি ডিপারে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০টি লার্ভা পেতাম। কিন্তু এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসে পাওয়া গেছে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫টি। ক্র্যাশ প্রোগ্রাম না নিলে, ঝড় বৃষ্টি না হলে মার্চে এই মশা আরও বাড়তে পারে।”

গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ডোবানালা, খালেও পানি বেশি ছিল।

ঢাকার এসব বদ্ধ জলাশয়ে পানি জমে থাকায় মশার বংশ বিস্তারের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, “জমে থাকা পানিতে ব্রিডিং সাইট তৈরি হয়েছে। যত বেশি ব্রিডিং সাইট হবে, কিউলেক্স মশার বংশবৃদ্ধি তত বেশি হবে। এবার এটাই হয়েছে।”

বড় ধরনের ঝড়-বৃষ্টি হলে প্রাকৃতিকভাবে কিউলেক্স মশা কমে যাবে। তবে সেই আশায় না থেকে দ্রুত মশক নিধন কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন ড. মঞ্জুর।

 

শেয়ার করুন:

আরোও খবর...
© All rights reserved ©Ekdeshi.com