1. admin@ekdeshi.com : Ekdeshi :
  2. editor@ekdeshi.com : Ek Deshi : Ek Deshi
শাল্লায় তান্ডব : আগের রাত থেকেই উত্তেজনা, হেফাজতের ‘আশ্বাসে’ নীরব পুলিশ

শাল্লায় তান্ডব : আগের রাত থেকেই উত্তেজনা, হেফাজতের ‘আশ্বাসে’ নীরব পুলিশ

  • সময় : বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০২১
শাল্লায় তান্ডব
শাল্লায় তান্ডব

শাল্লায় তান্ডব : আগের রাত থেকেই উত্তেজনা, হেফাজতের ‘আশ্বাসে’ নীরব পুলিশ

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে বিতর্কিত মাওলানা মামুনুল হক গত ১৫ মার্চ দিরাইয়ে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে বক্তৃতা করেন। ওই সমাবেশে তার কিছু বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের এক তরুণ। তিনি মামুনুলের সমালোচনা করে মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এই পোস্টকে কেন্দ্র করে দিরাই ও শাল্লা উপজেলায় উত্তেজনা দেখা দেয়। হেফাজতে ইসলাম ও মামুনুল হক অনুসারীরা এমন পোস্টে বিক্ষুব্ধ  হয়ে ওঠেন। এই ঘটনায় বুধবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল আহ্বান করে হেফাজতে ইসলাম।

শাল্লার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি হিন্দুপ্রধান গ্রাম নোয়াগাও। উত্তেজনা আঁচ করতে পেরে নোয়াগাও গ্রামবাসী ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত তরুণকে মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের হাতে তুলে দেন। এই গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবারের প্রায় সবাই দরিদ্র হিন্দু। ফলে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামের মানুষজনের মধ্যে।

তবে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি আর আতঙ্ক সত্ত্বেও ওই গ্রামের নিরাপত্তায় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ ছিলো না। ছিলো না পুলিশের বাড়তি নজরদারি। বরং হেফাজতের আশ্বাসেই বিশ্বাস রেখেছিলো প্রশাসন।

প্রশাসনের বাড়তি নজরদারি না থাকায় বুধবার সকালে নোয়াগাও গ্রামে নির্বিঘ্নেই হামলা চালায় মামুনুল হকের অনুসারীরা। ভাংচুর করা প্রায় ২৫ টি হিন্দু বাড়ি।

স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কথা বলে জানা যায়, উত্তেজনা টের পেয়ে মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় হেফাজত নেতা ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মুরব্বীদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসিসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকে স্ট্যাটাসদাতা আটকের পর অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বুধবারের আহুত বিক্ষোভ মিছিল প্রত্যাহার করে নিতে হেফাজত নেতাদের অনুরোধ করেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এসময় মিছিল না করার ঘোষণা দেন হেফাজত নেতারা।

হেফাজত ইসলামের নেতাদের আশ্বাস পেয়ে নজরাদিরও শিথিল করে প্রশাসন। হিন্দু অধ্যুষিত ওই গ্রামটির নিরাপত্তায় নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। এই সুযোগেই বুধবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে।

শাল্লার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-মুক্তাদির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকেই উত্তেজনা ছিলো। উত্তেজনার খবর পেয়ে রাতেই আমরা স্থানীয় মুরব্বীদের সাথে বসেছিলাম। তারা মিছিল না করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সকালে হঠাৎই মিছিল বের করে হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা তদন্ত করে বের করা হচ্ছে।

একই দাবি শাল্লা উপজেলা চেয়ারম্যান চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদেরও। তিনি বলেন, আমরা রাতেই পরিস্থিতি শান্ত করি। তারা মিছিল করবে না বলে আমাদের আশ্বাস দেয়। কিন্তু সকালে কিছু ছেলেপেলে এই ঘটনা ঘটায়। তিনি বলেন, হামলাকারীদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী দিরাই উপজেলার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বুধবার সকালে আচমকা হাজারো মানুষের আক্রমণে গ্রাম ছেড়ে পলায়ন করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। এই সুযোগে হেফাজত নেতার অনুসারীরা গ্রামে প্রবেশ করে তছনছ করে। লুটপাট করে বিভিন্ন বাড়িতে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভয়ে ও আতঙ্কে কথাও বলতে পারছে না হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। হামলাকারীরা ভাংচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি মন্দির ও ভাংচুর করেছে।

হামলার খবর জানালেও পুলিশ দেরিতে ঘটনাস্থলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের লোকজন। তারা এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলেও জানান।

হবিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও নোয়াগাও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন, কয়েক হাজার মানুষ এসে হঠাৎ গ্রামে হামলা, লুটপাট চালায়। আমাদের অনেকের দেবতাঘরও ভাংচুর করেছে। লুট করেছে ঘরবাড়ি। এমন ঘটনা একাত্তরেও ঘটেনি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, দিরাই উপজেলার নাচনী, চন্ডিপুর, সন্তোষপুর, সরমঙ্গল ও শাল্লা উপজেলার কালিমপুর গ্রামের লোকজন এই হামলা লুটপাটে অংশ নেয়।

তবে পুলিশের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি ছিলো না দাবি করে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আমরা রাতে হেফাজত নেতাদের সাথে বসেছি। তারা মিছিল করবেন না কথা দিয়েছেন। এরপরও ওই গ্রামে পুলিশের টহল ছিলো। সকালে আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকীতে উপলক্ষে যখন পুষ্পস্তবক অর্পণ করছিলাম তখনই মিছিলের খবর পাই। সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু কিছু লোক নদী সাঁতরে পার হয়ে বাড়িঘরে হামলা চালায়। তখন পুলিশের করার কিছু ছিলো না।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি জানিয়ে ওসি বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত আছে।

শেয়ার করুন:

আরোও খবর...
© All rights reserved ©Ekdeshi.com